1. info@www.shadhinbanglatv.com : TV :
  2. info@www.shadhinbanglatv.com : NEWS TV : NEWS TV
  3. live@shadhinbanglatv.com : www.shadhinbanglatv.com www.shadhinbanglatv.com : www.shadhinbanglatv.com www.shadhinbanglatv.com
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

এক বেডে তিন শিশু, হাম ওয়ার্ডে ‘আইসোলেশন’ শুধু নামেই

নিজস্ব প্রতিবেদক স্বাধীন বাংলা টিভি।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক স্বাধীন বাংলা টিভি।

শিশুদের কান্না, মায়েদের উৎকণ্ঠা আর ভ্যাপসা গরমে ভারী হয়ে থাকা বাতাস, এই দৃশ্যটাই এখন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

নামমাত্র ‘আইসোলেশন’, কিন্তু একই বেডে গাদাগাদি করে শুয়ে তিনজন আক্রান্ত শিশু। পাশে তিনজন মা। সব মিলিয়ে ছয়জনের ঠাঁই একটি বেডে।

বঙ্গোপসাগর তীরের বরগুনার মনসাতলী থেকে আসা সোনিয়া আক্তার সেই ভিড়ের মাঝেই বসে ছিলেন দুই জমজ সন্তানকে কোলে নিয়ে। বয়স মাত্র এক বছর সাত মাস। এক সন্তানের শরীরে ২৭ মার্চ, আরেকজনের ৩১ মার্চ ধরা পড়ে হাম।

বরগুনা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগে শেষ পর্যন্ত ছুটে আসেন বরিশালে। কিন্তু এসে দেখেন, সংক্রমণ থেকে বাঁচার বদলে যেন আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে ঢুকে পড়েছেন।

সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে বুধবার বিকেলের দিকে হাসপাতালে কথা হয়। তিনি অসহায় হয়ে বলেন, ‘এক বেডে তিনজন শিশু, তিনজন মা। কীভাবে যে চিকিৎসা পাব বুঝতে পারছি না।’ যখন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তার কণ্ঠে স্পষ্ট উদ্বেগ লক্ষ করা গেছে।

শুধু সোনিয়া নন, গোটা শিশু ওয়ার্ডজুড়েই একই ছবি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৫টি শয্যার বিপরীতে এখন ৪৮ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি।

শুধু বৃহস্পতিবার দুপুরেই নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ৮ জন। জায়গা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঠান্ডা-জ্বর, ফুসকুড়ি নিয়ে আসা শিশুদের ভিড়ে উপচে পড়ছে ওয়ার্ড। কোথাও কোনো নির্দিষ্ট দূরত্ব নেই, নেই আলাদা করে সংক্রমণ রোধের ব্যবস্থা।

যে আইসোলেশন থাকার কথা, বাস্তবে তা কেবল একটি শব্দমাত্র। এক বের্ডে রেখে তিন শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার ভিডিও রয়েছে কালের কণ্ঠের কাছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বিকাশ নাগও পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছেন। তাঁর কথায়, বেড নেই, জায়গা নেই। আইসোলেশন করতে গেলেও অবকাঠামো দরকার। আইসিইউ দরকার।

আমরা বক্স অক্সিজেন দিয়ে কোনোভাবে সামাল দিচ্ছি। কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। সবাইকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এক বেডে তিনজন রাখা কোনো আইসোলেশন নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।’

চিত্রটা আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, হাসপাতালের দোতলা ও তিনতলায় মোট ৪৯১ জন শিশু রোগী ভর্তি। এর মধ্যে ১০৩ জন নবজাতক। অথচ এখানে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সুবিধা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, বরিশাল বিভাগে ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৭৮ জন রোগী।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ অভিভাবক সরাসরি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে আসছেন।

ফলে একটি জায়গায় চাপ বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশনের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

হাসপাতালের ভেতরের এই ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টিকাকেন্দ্রের ভিড়ও। কোথাও বলা হচ্ছে টিকা নেই, আবার কিছুক্ষণ পরই মিলছে টিকা, এমন বিভ্রান্তির মুখে পড়ছেন অভিভাবকেরা। গরমে শিশুদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত দ্বৈত সংকটের মুখে বরিশাল। একদিকে বাড়তে থাকা সংক্রমণ, অন্যদিকে সেই সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থারই ভঙ্গুরতা।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ভিড়ে দাঁড়িয়ে এক মা বলছিলেন, চিকিৎসার জন্য এসেছি, কিন্তু এখানে এসে ভয়টাই যেন আরও বড় হয়ে গেছে।

এই ভয়টাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
বরিশালের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয়ক ডা. মো. এজাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে টিকার কোনো সমস্যা নেই। তবে ওটিবি (টাইফয়েড) ও পিসিভি (পোলিও), এই দুটি টিকার কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে হামের টিকার কোনো ঘাটতি নেই।’

এজাজ হোসেন আরো বলেন, হামের একটি টিকা পাঁচ শিশুকে দিতে হয়। তাই পাঁচ শিশু না এলে ছয় ঘণ্টার মধ্যে ওই টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য দুপুরের দিকে যখন ভিড় কিছুটা কমে যায়, তখন পরিস্থিতিটা পাল্টে যায়।

তখন সংকটের কথা বলা হয়। তবে পাঁচ শিশু হামের টিকার জন্য কেন্দ্রে এলে না বলার কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© shadhinbanglatv.com
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট